
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো: নাটোরের লালপুর উপজেলায় পুলিশ প্রশাসন এক সফল নৈশ অভিযান পরিচালনা করে বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ম্যাগাজিনসহ ৪ জন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীর আলোচিত ব্যক্তিত্ব জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মো. মাহমুদ হাসান ওরফে সোনামনিও রয়েছেন। অভিযান চলাকালে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরও একজন আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) গভীর রাতে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কে এই হাইভোল্টেজ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
লালপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে লালপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) (নিঃ) মো. আল মাসুমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল রাত্রিকালীন মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত ছিল। এ সময় গোপন সূত্রে খবর আসে যে, একটি চক্র অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাবনা-নাটোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ দল তাৎক্ষণিকভাবে লালপুর উপজেলার পালিদেহা গ্রামের আক্কাস মেম্বারের বাড়ির সামনে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অবস্থান নেয়।
চেকপোস্টে তল্লাশি চলাকালীন একটি সন্দেহভাজন সাদা রঙের প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করতেই ভেতরে থাকা আরোহীদের আচরণে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে পুলিশ নিখুঁত তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ছয়টি আধুনিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কারটি জব্দ করার পাশাপাশি চারজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়: ১. মো. মাহমুদ হাসান ওরফে সোনামনি (৪০) — ঈশ্বরদীর জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই (পাবনা জেলা)। ২. মো. সামিউল ইসলাম (৪৬) — পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা। ৩. মো. কাজল (৪০) — পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা। ৪. মো. মনিরুজ্জামান (৩৯) — নাটোর জেলার লালপুর এলাকার বাসিন্দা।
লালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা বের করতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় লালপুর থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া আইনি নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে, অন্ধকার ও সুকৌশলে পালিয়ে যাওয়া অপর আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।