
নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল চারটার পর খগাখরিবাড়ী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
উদ্বোধনী খেলায় রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ডিমলা ফুটবল একাদশ ২–০ গোলে খগাখরিবাড়ী ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী–১ (ডোমার–ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন,
“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন অনন্য ক্রীড়ানুরাগী। তিনি বিশ্বাস করতেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। আজকের এই টুর্নামেন্ট তার সেই স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন,
“খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা চাই প্রতিটি গ্রামে খেলাধুলার চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক, তরুণরা মাঠমুখী হোক, ইতিবাচক সমাজ গঠিত হোক।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, গোলাম রব্বানী প্রধান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রবিউল ইসলাম লিথন, সাবেক চেয়ারম্যান, খগাখরিবাড়ী ইউনিয়ন ও টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক।
এছাড়া টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও টুর্নামেন্টের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম শাহীন উদ্বোধনী ম্যাচের সঞ্চালনা করেন।
মাঠজুড়ে ছিল উত্তেজনা, করতালি ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস। খেলার ২০তম মিনিটে ডিমলা একাদশের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় রিমস প্রথম গোল করেন।
শেষ মুহূর্তে খগাখরিবাড়ী দলের গোলরক্ষক সাকিবের আত্মঘাতী গোলে দ্বিতীয় গোলটি হয়।
ফলে ডিমলা ফুটবল একাদশ ২–০ গোলে জয়লাভ করে।
অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য রিমস ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের কাঁধে তুলে সমর্থকরা মাঠজুড়ে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, এই প্রাণবন্ত টুর্নামেন্ট তরুণ সমাজকে মাঠমুখী করছে এবং এলাকায় ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক মনোভাবের বিকাশ ঘটাচ্ছে।