
মুহাম্মদ আবু হেলাল | শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী এলাকার শিমুলতলী গ্রামে জমি দখলের চেষ্টা, আমবাগানের গাছ কর্তন এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে প্রশাসনের কাছে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তারা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিমুলতলী এলাকায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিকুর রহমান (৫৭)।
লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাবকবলা দলিলমূলে তিনি চরপক্ষীমারী মৌজায় নিজের ক্রয়কৃত জমি ও আমবাগান দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু খাসপাড়া মরাকান্দি এলাকার মো. ঈমান আলী (৬৫) ও মো. হেলাল উদ্দিন (৬০) এবং তাদের সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে পৃথক দুটি মামলায় তিনি ডিক্রি প্রাপ্ত হন। তবে আদালতের রায় উপেক্ষা করেই অভিযুক্তরা জমিতে অনুপ্রবেশসহ নানা ধরনের ক্ষতিসাধন করে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা ওই আমবাগানের চারপাশে থাকা প্রায় ১৫০টি বনজ গাছের ডালপালা কেটে ফেলে এবং বাগানের বেড়া ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিতে গেলে বাগানের পাহারাদার মো. আব্দুল মালেককে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেই সিদ্দিকুর রহমানকে হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় যেকোনো সময় নিজেরাই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো তাকে ও তার লোকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করছে। এ ঘটনায় তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি শেরপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৩১) করেছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জমশেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজের প্রভাষক আনোয়ার হোসেন, চরপক্ষীমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম উদ্দিন, বাগানের অংশীদার আশরাফ উদ্দিন এবং পাহারাদার আব্দুল মালেক।
বক্তারা বলেন, এলাকায় বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা কিংবা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।