
(নীলফামারী) প্রতিনিধি | নিউজ গ্রামবাংলা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া–পাগলাপীর সড়কের সুইচগেট এলাকায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অন্তত ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাণ্ডব চালিয়ে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন এবং কয়েক লাখ টাকা লুট করেছে। এ ঘটনায় সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে নুরল হকের ছেলে আ. মালেক (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের সুইচগেট এলাকায় ডাকাত দলটি অবস্থান নেয়। তারা সড়কের ওপর বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহন আটকে দেয়। এরপর ধারালো অস্ত্রের মুখে একের পর এক ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতরা অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন, নগদ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বা জানালা খুলতে দেরি করেছে, তাদের ওপর চালানো হয় নৃশংস হামলা। এ সময় ডাকাতরা বেশ কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে।
রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এবং এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে। গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ডাকাতির শিকার আহত যাত্রীদের অনেকেই জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা ডিমলা থানা ও র্যাব-১৩ (সিপিসি-২) কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সোমবার ভোরে উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রাম থেকে আ. মালেককে গ্রেপ্তার করে।
ডিমলা থানার এসআই পরিতোষ রায় জানান, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে ডালিয়া–পাগলাপীর সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার এবং দ্রুত সব ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীরা।