
নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরপুর (কুষ্টিয়া) | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জিম খাতুন। সে মির্জানগর গ্রামের মুস্তাকের মেয়ে এবং ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
ঘটনার বিবরণ: পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টার দিকে জিম তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্কুলে যায়। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জিম বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। এলাকা জুড়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পিয়নের রহস্যজনক ভূমিকা ও গ্রামবাসীর উদ্ধার অভিযান: রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার ও গ্রামবাসী বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে গিয়ে জিমের বিষয়ে জানতে চান এবং স্কুল ভবন তল্লাশি করার জন্য চাবি দাবি করেন। অভিযোগ উঠেছে, পিয়ন হামিদুল চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্কুলে কেউ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।
একপর্যায়ে পিয়নের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে গ্রামবাসী তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পর চাবি ছিনিয়ে নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের তিন তলার একটি কক্ষে মুখ টেপ দিয়ে আটকানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জিমকে অচেতন পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
চিকিৎসা ও আইনি ব্যবস্থা: উদ্ধারের পরপরই জিমকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ৯৯৯-এর মাধ্যমে মিরপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, “মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।”
বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা পিয়নের রহস্যজনক ভূমিকার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।