
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, অন্যদিকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবার নিম্নমুখী মানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের রোগীরা।
রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাঁদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে বারবার নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে হচ্ছে। এই কর্মসূচির ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ ওয়ার্ডের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন:
অসৌজন্যমূলক আচরণ: ডাক্তার ও নার্সদের অপেশাদার ও রূঢ় আচরণের অভিযোগ করেছেন অনেক রোগী।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাণিজ্য: হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষা না করিয়ে রোগীদের কৌশলে বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ফি: বেসরকারি চেম্বারে চিকিৎসকদের ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত পরামর্শ ফি দিতে হচ্ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে।
গাড়ি সিন্ডিকেট: হাসপাতাল থেকে মরদেহ বের করতে গেলেও নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় লাশ পরিবহন করতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা।
রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মো. মাফুজুল হুসাইন হিকোল বলেন, “চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি দালালচক্র ও চিকিৎসা বাণিজ্যের সিন্ডিকেট নির্মূল করাও অপরিহার্য। বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত ফি ও অহেতুক পরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।”
তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
হাসপাতালে অচলাবস্থা নিরসনে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।