
শরিফা বেগম শিউলী, রংপুর প্রতিনিধি Published: ৭ জুন, ২০২৬
রংপুর: রংপুরে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধমকির প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘জব্বার মিয়া’ নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে নিজ অর্থায়নে তিনি জব্বার মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি ঘটে। বর্তমানে মৃত সানু ও জব্বার মিয়ার পরিবারের সদস্যরা যোগসাজশ করে আব্দুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি হুমকির কারণে বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা প্রতিপক্ষের সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই বর্বরোচিত হামলায় আব্দুর রহমানের ডান হাত ভেঙে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
আব্দুর রহমান জানান, মানবিক কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের উৎপাত ও হুমকি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ায় তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমি দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আশা করি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং আমরা ন্যায়বিচার পাব।” সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।