
নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬
বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি যখন চরমে, তখন কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঠদান বাদ দিয়ে পাম্পে গিয়ে তেল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পাওয়ার সরকারি সুযোগকে অপব্যবহার করে ক্লাস চলাকালীন সময়ে তারা পাম্পে ভিড় করছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে গত ১৫ এপ্রিল বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। ওই পত্রে সরকারি চাকুরিজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং শিক্ষকদের দুর্ভোগ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের জন্য ‘পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশন’ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনার পর সাধারণ মানুষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের জন্য দুটি আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করে।
অভিযোগের বিস্তারিত: অনুসন্ধানে জানা গেছে, অগ্রাধিকার তালিকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু শিক্ষক নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত করে পাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তারা বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না থেকে মোটরসাইকেলের তেল সংগ্রহকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুজন শিক্ষকের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “শিক্ষকদের জন্য ছুটির দিনে তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলে পাঠদান ব্যাহত হতো না। বর্তমানে যা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রকার প্রতারণা।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেন, “কোনো শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। তেল নিতে হলে অবশ্যই ছুটির দিনে বা অফিস সময়ের বাইরে গিয়ে নিতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানান, “সরকারি নিয়ম অমান্য করে কোনো শিক্ষকের তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। নিয়ম মেনেই সবাইকে তেল সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, যেখানে শিক্ষকরা আদর্শ হওয়ার কথা, সেখানে তেল সংগ্রহের জন্য ক্লাস ফাঁকি দেওয়া দুঃখজনক।