
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ঝিনাইগাতী (শেরপুর): শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক নারী কেয়ারটেকারকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী মোছা: হাজেরা ইয়াছমিন কাজল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজেরা ইয়াছমিন কাজল জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে উপজেলার রাংটিয়া মৌজায় শেরপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি হযরত আলীর প্রায় সাত একর সম্পত্তি, বাগান ও আবাদি জমি অত্যন্ত সততার সাথে দেখাশোনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার কিছু অসাধু ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরাতে এবং মানহানি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
ভয়াবহ সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “গত ১১ এপ্রিল গভীর রাতে আমার অনুপস্থিতিতে একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরের আসবাবপত্র যেমন— কাঠের ওয়ারড্রোব, ওয়াল শোকেস, সোফাসেট থেকে শুরু করে গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।”
এছাড়া দুর্বৃত্তরা টিউবওয়েল ও পানির মোটর খুলে নেওয়াসহ বাগানের বৈঠকখানা ও বসতঘর ভাঙচুর করে। এতে তার প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এসব কাজে বাধা প্রদান করায় তারা আগে থেকেই তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই লুটপাট চালানো হয়েছে।
এই ঘটনায় হাজেরা ইয়াছমিন কাজল বাদী হয়ে শেরপুর আদালতে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং: ১৩৫/২৬)।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন: ১. আবুল হোসেন চৌকিদার ২. কুরবান আলী ৩. আনোয়ার হোসেন ৪. ইসমাইল হোসেন ৫. সাদ্দাম হোসেন ৬. আব্দুল হক
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, একজন অসহায় নারী হিসেবে আমি যেন ন্যায়বিচার পাই।”
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
