
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ভবন ‘থিম ওমর প্লাজা’য় সশস্ত্র হামলা, দাপ্তরিক নথিপত্র ছিনতাই এবং কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেট অফিসার আসাদুল হক বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা হলেন—জাকিরুল ইসলাম (৩৮), সুমন কুমার সরকার (৩৫), আব্দুল আওয়াল (৪০) ও মো. রায়হান হোসেন (৩২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, আসামি সুমন ও আওয়াল থিম ওমর প্লাজার সাবেক কর্মচারী। শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দুপুরে আসামিরা পিস্তল, লোহার রড, হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থিম ওমর প্লাজার ৭ম তলায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা কর্মকর্তাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে মোবাইল ও ল্যাপটপ কেড়ে নেন। এরপর ড্রয়ার ও লকার ভেঙে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা লুটে নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, ৫ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামিরা অফিস দখলে রেখে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকার সরঞ্জাম ও মালামাল লুট করেন। এ ছাড়া দোকান ভাড়া ও জামানত বাবদ আরও ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৪ জানুয়ারি। ওইদিন আসামিরা ভবনের ৯ তলায় অবস্থিত কোম্পানির চেয়ারম্যানের পারিবারিক বাসভবন ‘পেন্ট হাউজে’ হামলা চালায়। সেখানে গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মূল্যবান এন্টিক সামগ্রী লুট করা হয়। এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী সুমন ও আওয়াল বলেন:
“মামলার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা তাঁদের অধীনে চাকরি করতাম, তারা বিনা কারণে আমাদের বাদ দেয়। বর্তমানে আমরা জাকির এন্টারপ্রাইজের আওতায় কাজ করছি।”
বাদী আসাদুল হক জানান, ঘটনার পর বোয়ালিয়া থানায় অনলাইনে জিডি করা হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়। যার ফলে মামলাটি দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য পিবিআই রাজশাহীর এসপি’র সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।