
হাবিবুর রহমান | লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু, শসা ও মৌসুমের আগেই আসা তরমুজের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ রোজাদারদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
কমলনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের শরবতের জন্য অতি প্রয়োজনীয় লেবু এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, অর্থাৎ একটি লেবুর দাম পড়ছে ২০ টাকা। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শসার দামও; প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তরমুজের দাম। এখনো পুরোদমে মৌসুম শুরু না হলেও বাজারে আসা অপরিপক্ক কাঁচা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ফলের বাজারেও একই অবস্থা; মানভেদে খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই ইফতারের এই প্রধান ফলটি কিনতে পারছেন না।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন বলে তাদের দাবি। ভুক্তভোগী এক ক্রেতা জানান, “দ্রুত বাজার তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের জন্য রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
তবে বাজার সংশ্লিষ্ট ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে অন্য কারণও রয়েছে। তাদের দাবি:
বাজারে বর্তমানে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, সেটির পূর্ণাঙ্গ মৌসুম এখনো শুরু হয়নি।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, ক্রেতাদেরও অপরিপক্ক বা সিজন শুরু না হওয়া ফলের প্রতি অতি-আগ্রহের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
রমজানের শুরুতেই এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা রোজাদাররা। সাধারণ মানুষ এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।