
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত গণভোট এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পৃথক দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের রুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) রিট দুটির ওপর শুনানি শেষ হয়েছিল এবং আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা এবং গাজী মো. মাহবুব আলম পৃথকভাবে এই রিটগুলো দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতে দাখিলকৃত রিট আবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:
প্রক্রিয়াগত ত্রুটি: গণভোট প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বচ্ছতার অভাব: ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শপথের বৈধতা: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্য দেওয়া চিঠির আইনি ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন: গণভোটের ফলাফল বাতিল করে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং অনিয়মগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৩ নভেম্বর এর বাস্তবায়ন আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই সনদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত এই পুরো প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েই এখন উচ্চ আদালতে বিতর্ক শুরু হলো।
হাইকোর্টের এই রুলের ফলে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।