
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়:
দেশের স্থবির হয়ে পড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ কাজে লাগাতে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সুগার মিল পরিদর্শন এবং স্থানীয় আখচাষীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা এখন সময়ের দাবি। যদি আমরা এই মিলগুলোকে আবার উৎপাদনে ফেরাতে পারি, তবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর ফলে সরকারের শুধু রাজস্ব আয়ই বাড়বে না, বরং মিলগুলোর পুঞ্জীভূত ঋণ পরিশোধের একটি টেকসই পথও উন্মুক্ত হবে।”
মন্ত্রী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে বর্তমানে ৬টি বন্ধ রয়েছে। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসব মিল পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল চালু করাই লক্ষ্য নয়, বরং মিলগুলো যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনকভাবে পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো অপচয় না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট করে বলেন যে, চিনিকলের প্রাণ হচ্ছে আখচাষী ও শ্রমিকরা। তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, মিলগুলোর আধুনিকায়ন ও বিকল্প ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে আখ চাষে কৃষকরা পুনরায় আগ্রহী হন।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সংসদ সদস্য, পঞ্চগড়-১।
ওবায়দুর রহমান, সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়।
সভায় পঞ্চগড় সুগার মিলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শত শত আখচাষী অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে দীর্ঘদিনের দাবি ও মিলটি দ্রুত চালুর অনুরোধ জানিয়ে কৃষক, শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ শিল্পমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করেন। মন্ত্রী স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে তা দ্রুত পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।
পঞ্চগড় সুগার মিলটি এই অঞ্চলের মানুষের আবেগের সাথে জড়িত। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় এই এলাকার হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। শিল্পমন্ত্রীর এই সফর ও আশ্বাস এলাকার প্রান্তিক চাষীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে মিলটি দ্রুত লাভের মুখ দেখবে।