
বিনোদন ডেস্ক |
বিশ্বসংগীতের মঞ্চে যখন টেলর সুইফট বা রিহানার মতো নারী শিল্পীরা রাজত্ব করছেন, ঠিক তখনই ভারতীয় সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রির এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি রাজ শমানির এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, ভারতীয় সঙ্গীত জগৎ বর্তমানে এক চরম বৈষম্য ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
শ্রেয়া ঘোষাল মনে করিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গীতের ইতিহাস সবসময় এমন পুরুষতান্ত্রিক ছিল না। লতা মঙ্গেশকর কিংবা আশা ভোঁসলের সময়ে নারী কণ্ঠশিল্পীরা পুরুষ গায়কদের চেয়েও অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিলেন। শ্রেয়া আক্ষেপ করে বলেন,
“গত ১০ বছরে সেই ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। লতা জি বা আশা জি-র জামানায় তাঁদের গানের সংখ্যা ও প্রভাব ছিল আকাশছোঁয়া। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি এক চরম বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
বর্তমানে মিউজিক চার্টে নারী কণ্ঠের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রেয়া বলেন,
“টপ ১০ তো ছেড়েই দিন, টপ ৫০-এর তালিকায় গেলেও দেখবেন সেখানে বড়জোর ছয় থেকে সাতজন গায়িকার গান আছে। বাকি সব পুরুষ কণ্ঠ।” তিনি জানান, বড় বাজেটের সিনেমা বা আইটেম সং ছাড়া নারী শিল্পীদের জন্য একক গান তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এমনকি নিজের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় গান ‘চিকনি চামেলি’-র মতো আইটেম সং থেকেও এখন তিনি দূরে থাকতে চান বলে জানান।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি কন্যা মাত্র ১৬ বছর বয়সে ‘সারেগামাপা’ জয়ের মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। নির্মাতা সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়া শ্রেয়া প্রথম সিনেমাতেই জিতে নিয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার।
দীর্ঘ আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে আসমুদ্র হিমাচলকে মুগ্ধ করা এই গায়িকা বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন তাঁর ওয়ার্ল্ড ট্যুর ‘The Unstoppable’ নিয়ে। তবে বর্তমানের এই বৈষম্য কাটবে বলে আশা করেন তিনি। তাঁর মতে, ফিউশন আর নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমেই নারী কণ্ঠশিল্পীরা আবার তাঁদের হারানো গৌরব ফিরে পাবেন।