
বেল্লাল হোসাইন নাঈম, হাতিয়া (নোয়াখালী) | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
হাতিয়া: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের ঘটনা ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার ২১ দিন পর স্থানীয় ১৭ জন সালিশদার মিলে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন (৬০) হাতিয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকার সেকান্তর মিয়ার ছেলে এবং ভুক্তভোগী শিশুর দূর সম্পর্কের জেঠা। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, তার স্বামী ওমান প্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে মোছলেউদ্দিন তাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
গত ১৭ মার্চ ওই নারী ঈদের কেনাকাটা করতে বাজারে গেলে সুযোগ বুঝে মোছলেউদ্দিন শিশুটিকে কোলে করে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে মোছলেউদ্দিন পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক সালিশি বৈঠকে ৩০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
সালিশদার মো. ফারুক জানান:
“আমরা ১৭-১৮ জন মিলে বৈঠকে বসি। ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা না পাওয়ায় শিশুটিকে থাপ্পড় দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। টাকাটি বর্তমানে হাজী বেলাল উদ্দিনের কাছে জমা আছে।”
ভুক্তভোগী মা শনিবার দুপুরে জানান, তিনি শেষ পর্যন্ত জরিমানার টাকা গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাল্টা তার বিরুদ্ধে মামলা করায় এবং পুলিশ ও সালিশদারদের চাপের মুখে তিনি মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুলিশ ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোছলেউদ্দিন ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, “মারামারির একটি ঘটনা নিয়ে বৈঠক হয়েছিল এবং সেটি মিটমাট হয়েছে।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান: “তদন্তে ধর্ষণচেষ্টার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই অভিযোগ করা হয়েছিল। মূল ঘটনা ছিল শিশুদের মারামারিকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিশুকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন।”
ওসি আরও দাবি করেন, পুলিশ এই সালিশি নিষ্পত্তির সাথে যুক্ত নয় এবং ভুক্তভোগীর মা নিজেই মামলা করতে থানায় আসেননি।