
আবুল হাশেম, রাজশাহী | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর বিদ্যুৎ বিলের কাগজে ‘প্রিপেইড মিটার চেঞ্জ’ সংক্রান্ত সিল মারাকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিলের কাগজে এমন সিলের ঘটনায় শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, নেসকো কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ করে বিলের কাগজে প্রিপেইড মিটার পরিবর্তনের সিল দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন না এটি বাধ্যতামূলক কি না কিংবা মিটার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কী হবে।
শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে এ নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয় একাধিক গ্রাহক জানান:
“বিল হাতে পাওয়ার পর এমন সিল দেখে আমরা আতঙ্কিত। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা বা গণসচেতনতা তৈরি করা জরুরি ছিল।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গ্রাহকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের—মিটারে রিডিংয়ের সাথে বিলের কোনো মিল থাকে না। কখনও অতিরিক্ত বিল, আবার কখনও ইচ্ছা করে ১০০/২০০ ইউনিট বেশি দেখিয়ে বিল বাড়ানো হয়। এই অনিয়মের মধ্যেই ‘প্রিপেইড মিটার’ স্থাপনের নতুন উদ্যোগে সাধারণ মানুষ নতুন করে সংকটের আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে নেসকো রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক জানান, জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই বিলের কাগজে সিল মারা হচ্ছে। তিনি বলেন:
“আমরা সিল মারার মাধ্যমে মূলত মানুষকে সচেতন করতে চাই।”
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ীই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কমিটির সদস্য সচিব বলেন:
“প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের, যা এখন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নেসকো জোর করে বিলের কারসাজি ও মিটার পরিবর্তনের পাঁয়তারা করছে। রাজশাহীর জনসাধারণ এই প্রিপেইড মিটার আগেও মেনে নেয়নি, এখনো নেবে না।”
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তারা পাশে থাকবেন এবং প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।