
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী নগরীর পদ্মা নদীর শিমলা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও বেপরোয়া আচরণ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে সাধারণ আড্ডা মনে হলেও এখন তা সংঘবদ্ধ গ্যাং কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কিশোর শিমলা এলাকায় জড়ো হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। কয়েকদিন পরপরই মারামারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ওই এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, এই কিশোর গ্যাংয়ের একটি অংশকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোক সমাগম বাড়ানো, প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পদ্মার পাড়ে পরিবার নিয়ে একটু শান্তির খোঁজে আসি। কিন্তু কিশোরদের উশৃঙ্খলতা ও যখন-তখন মারামারির ভয়ে এখন সেখানে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে কার ওপর আক্রমণ হয় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসনের দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এখনই যদি এই গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এই কিশোররা বড় ধরনের অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদ্মা পাড়ের শিমলা এলাকায় দ্রুত পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।