
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার
চাটখিল (নোয়াখালী): নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নে একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পূর্ব শোশালিয়া ঈদগাহ দিঘির মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট এই বিরোধে উভয় পক্ষের অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে পশ্চিম শোশালিয়া শেখের বাড়ির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জবরদখল ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে সফিউল বাসার বাবুল শেখ জানান, দিঘিটির প্রকৃত মালিক জনস্বার্থে এবং ঈদগাহ ও মসজিদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এটি দান করে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেহেদী হাসান রাকিবের পরিবার একটি জাল দলিল তৈরি করে দিঘিটি দীর্ঘ দিন অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিল। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বা ‘ছোলেনামা’ স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, দিঘির পাড়ের বাসিন্দারা ৬ আনা অংশ এবং বাকি ১০ আনা অংশ এলাকাবাসী ঈদগাহ ও মসজিদের কাজে ব্যবহার করবেন—এমন শর্তে গত ৩০ বছর ধরে কার্যক্রম চলে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাকিব ও তার পরিবার সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে পুনরায় পুরো দিঘিটি জবরদখল করে মাছ বিক্রি শুরু করে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দিঘিতে মাছের পোনা ছাড়তে গেলে পাড়ের বাসিন্দারা বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন আহত হন। গ্রামবাসীদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং দিঘির মালিকানা নিয়ে সাধারণ গ্রামবাসীর সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য শাহ জামাল কালু, শেখ কামাল ও সিরাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হালিম, আহসান উল্যাহ, নাসির উদ্দীন বকশি, আব্দুর রশিদ রিপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দিঘিটির ১০ আনা অংশ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।