
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো।
সাভারে জেন্ডার পরিবর্তন করে আসা এক নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ এবং ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার প্রেমিক বিপ্লব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) ভোররাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাভার মডেল থানা পুলিশ ও বাঘা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
ভুক্তভোগী সাভার শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির একজন নিয়মিত নৃত্যশিল্পী। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত বিপ্লব হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘ ১৭ বছরের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বিপ্লব তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জেন্ডার পরিবর্তন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তার কথা বিশ্বাস করে ওই শিল্পী ভারতে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জেন্ডার পরিবর্তন করে নারী হিসেবে দেশে ফেরেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জেন্ডার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার সময় বিপ্লব তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি লিখিত চুক্তিনামা সম্পাদন করেন। এই সুযোগে চিকিৎসার খরচ ও বিভিন্ন অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু জেন্ডার পরিবর্তন করে দেশে ফেরার পর ওই শিল্পী জানতে পারেন যে, তার অনুপস্থিতিতে বিপ্লব অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছেন।
ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে গত ৬ মে। ভুক্তভোগী সাভারের গেন্ডা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। ওই দিন বিপ্লব তার এক সহযোগীকে নিয়ে জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করেন। তারা আগের করা সেই লিখিত চুক্তিপত্রটি দাবি করেন। ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকার করলে তাকে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় গত ৭ মে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় বিপ্লব হোসেনকে প্রধান আসামি এবং শান্ত পাণ্ডে নামে অপর একজনকে দ্বিতীয় আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ জানান, মামলায় জেন্ডার পরিবর্তনকারী ব্যক্তিকে ধর্ষণের (বলাৎকার ধারা সংশ্লিষ্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “অভিযুক্তকে রাজশাহীর বাঘা থেকে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে, জেন্ডার পরিবর্তন করে আসা ওই নৃত্যশিল্পী তার সাথে হওয়া এই চরম প্রতারণা ও লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে প্রশাসনের কাছে বিপ্লবের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।