
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়) ৭ জুন, ২০২৬
পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জন বাংলাদেশি টানা তিনদিন ধরে ভারতীয় শূন্যরেখায় আটকে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর কাদাপানির মধ্যে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন ভারতীয় শূন্যরেখায় তিন শিশু ও দুই নারীসহ মোট ১০ জন অসহায় অবস্থায় অবস্থান করছেন। তিনদিন ধরে এই প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে আটকে থাকলেও কোনো দেশের পক্ষ থেকেই তাদের জন্য খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি রোববার সকালে বিজিবি মানবিক কারণে খাবার পানি দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাতে বাধা দেয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ আকস্মিকভাবে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা করে। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দিলে তারা শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। এরপর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফের একঘেয়েমির কারণে কোনো সমঝোতা হয়নি।
এদিকে রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএসএফ পুনরায় ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। বিজিবি সদস্যরা এতে কঠোর বাধা দিলে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সীমান্তের আশপাশের স্থানীয় লোকজন দলে দলে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও বিএসএফ উভয় বাহিনীই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত নতুন করে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।