
মনিরুজ্জামান লিমন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরে আদালতে যথাসময়ে সাক্ষী দিতে উপস্থিত না হওয়ায় সানজিদা ইসলাম নামে এক নারী চিকিৎসককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ডা. সানজিদা ইসলাম জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন (গাইনী) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে বকশীগঞ্জ থানার একটি চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগীর মেডিকেল সনদ (ডাক্তারি পরীক্ষা) দাখিল করেছিলেন গাইনী চিকিৎসক সানজিদা ইসলাম। মামলার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে এই মেডিকেল রিপোর্টের ওপর আদালতে তার সাক্ষ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
আদালত থেকে বারবার সমন জারি করে ওই চিকিৎসককে হাজির হতে বলা হলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন আদালত তাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেন এবং আজ ১ জুলাই সাক্ষ্য প্রদানের জন্য চূড়ান্ত দিন ধার্য করেন।
নির্ধারিত দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ ডা. সানজিদা ইসলাম আদালতে সাক্ষী দিতে উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিক ২৫০ টাকা জরিমানা করেন এবং তা অনাদায়ে বা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর করতে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসকদের এভাবে সাক্ষ্যদানে অবহেলা বা অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় স্পর্শকাতর মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও ব্যাহত হয়। এই রায়ের মাধ্যমে আদালতের জবাবদিহিতা আরও দৃঢ় হবে।