
অনলাইন ডেস্ক •
শেরপুরে ২৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার ও প্রতারণার মামলায় সজীব আল হাসান নামে এক মেডিকেল সরঞ্জাম ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গত ২৯ জুন (সোমবার) বিকেলে শেরপুর আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সজীব শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের মোঃ শরাফত আলীর ছেলে।
সজীব আল হাসান দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় মেডিকেল সরঞ্জামাদির ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েন নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী খন্দকার পাড়ার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মাসুদ রানা সজীব।
একটি বিশেষ প্রয়োজনের কথা বলে ব্যবসায়ী সজীব ওই সেনা সদস্যের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা হাওলাত (ধার) নেন। এই টাকার বিপরীতে তিনি তার নামে থাকা এনআরবিসি ব্যাংক, নালিতাবাড়ী শাখার একটি ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।
পরবর্তীতে পাওনাদার সেনা সদস্য মাসুদ রানা নালিতাবাড়ী শাখায় চেকটি দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে গেলে জানতে পারেন, সজীবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এরপর কয়েক দফায় ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ‘ডিজঅনার’ হিসেবে গণ্য করে।
কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিজের টাকা উদ্ধারে আইনের আশ্রয় নেন এবং আদালতে সজীব আল হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৪৩২, ধারা: ৪২০ দঃ বিঃ)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অন্য একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন সজীব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আদালত চত্বর থেকেই তাকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের পাওনা ২৫ লাখ টাকার মধ্যে গ্রেফতারকৃত সজীব সাড়ে ১২ লাখ টাকা আদালতে জমা দেন। টাকা জমা দেওয়ার পর, ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে ডিবি পুলিশ ও আদালত সজীব আল হাসানকে জামিন প্রদান করেন।
এদিকে, একজন ব্যবসায়ীর এমন সুনির্দিষ্ট প্রতারণা ও গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়িক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
শেরপুর থেকে তথ্য পাঠিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি আছাদুজ্জামান মোরাদ।