
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ
৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের মেয়ে মোসা. সাদিয়া আফরিন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি এই গৌরবময় কৃতিত্ব অর্জন করে নিজের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুরো এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
সাদিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সোনালী ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মা হাসিনা আহমেদ। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও প্রবল আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও অনন্য অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাদিয়া দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সাদিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে বাঘা উপজেলার মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যভেদী প্রস্তুতির পর তিনি প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা (তথ্য ক্যাডার) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
সাদিয়ার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেছে বাঘার মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ মো. নছিম উদ্দিন তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “সাদিয়ার এই অর্জন আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমরা তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও কল্যাণ কামনা করি।”
মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সাদিয়া ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ ছিল। আমরা বাবা-মা হিসেবে তাকে সবসময় সততা, নিষ্ঠা ও মানুষের সেবার শিক্ষা দিয়েছি। আজ তার এই অর্জন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, সে আগামী দিনে একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে দেশের সেবা করবে।”
স্থানীয়দের মতে, নতুনপাড়া গ্রামের এই মেধাবী তরুণীর সাফল্য প্রমাণ করে—অধ্যবসায়, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও যেকোনো বড় স্বপ্ন জয় করতে পারে। সাদিয়ার এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন বাঘা উপজেলার আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।