
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দলীয় নেতার দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় মো. মিলন হোসেন (২৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার করইতলা বাজার থেকে কমলনগর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত মিলন চরলরেন্স ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি নিজেকে চরলরেন্স ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন।
গত ২০শে এপ্রিল চরলরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ বাদী হয়ে মিলনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে কমলনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মিলনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মোশারফ হোসেন (২৭), মেজবাহ উদ্দিন রাতুল (২২), আবদুল মন্নান (২০) ও মো. জিহাদ (২০)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মিলন এলাকায় যুবদলের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও সরকারি জায়গা দখলের মতো কর্মকাণ্ড শুরু করেন। এ ছাড়াও করইতলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে তিনি নিয়মিত জুয়ার আসর বসাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব অপকর্মের লভ্যাংশ উপজেলার অনেক বড় নেতাও পেতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, করইতলা এলাকায় মিলনের যাবতীয় অপকর্মের একজন শক্তিশালী আশ্রয়দাতা থাকলেও বিশেষ মহলের প্রভাবে তাকে মামলায় আসামি করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী চরলরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ বলেন, “সরকার পতনের পর করইতলা বাজারের এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় মিলন নানা অপকর্মে লিপ্ত হন। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং আমাদের দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরুপায় হয়ে আমি মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।”
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি মিলনকে গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।