
শাহিন হাওলাদার / বরিশাল প্রতিনিধি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশি অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় ৫ যুবককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেনের দিকনির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে মাদকসেবীদের আসর বসেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ৫ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন:
মিজান হাওলাদার (২৫)
সজীব হাওলাদার (২২)
সাব্বির খান (২১)
নাজমুল সিকদার (২৬)
আরাফাত (১৯)
আটককৃত যুবকরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আটক করার পরপরই রাতে তাদের উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চলাকালীন আটককৃতরা মাদক সেবনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং জনস্বার্থে মাদকের বিস্তার রোধে আদালত তাদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।
আদেশ প্রদানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদার জানান, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অন্যদের সতর্ক করাই এই আদালতের উদ্দেশ্য।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন:
“মাদক সেবনকারী কিংবা কারবারি—কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। বাকেরগঞ্জ উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্পটে অভিযান পরিচালনা করছি যাতে মাদক ব্যবসা ও সেবনের শিকড় উপড়ে ফেলা যায়।”
থানা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামিকে আজ সকালেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলা কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা মনে করেন, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং তরুণ প্রজন্ম মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাবে।