1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাণীনগরে এক মঞ্চে সাতটি সরকারি অনুদান ও সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শোকজ ছাড়াই বহিষ্কারের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে বিএনপির দুই নেতার সংবাদ সম্মেলন পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা! পঞ্চগড়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি নাগরিক আটক বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগ দেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম, সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ বকশীগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের তল্লাশি দেখে পালাল চালক, ৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মোটরসাইকেল জব্দ! রামগতিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে পাওয়ার টিলার বিতরণ ও প্রশিক্ষণ বোদায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, পরিবেশ বেহাল; স্থানীয়দের ক্ষোভ বকশীগঞ্জে পানির ট্যাংকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ৪৭তম বিসিএসে বাজিমাত: স্বাস্থ্য ক্যাডারে দেশসেরা ২৩তম বাঘার রুমা সুলতানা

পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
পুঠিয়া সংবাদ, রাজশাহী, পাইকপাড়া ভূমি অফিস, তহশিলদার দুর্নীতি, খাস জমি দখল, ভূমি অফিসে ঘুষ, রাজশাহী অপরাধ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া:

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম, গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী স্থানীয় একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে সব ধরনের জমি সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা নিতে গেলে মাসের পর মাস বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মুহূর্তেই মিলছে সমাধান।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিস চলাকালীন খোদ ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই আফান এবং দলিল লেখক তাহের আলী নামের দুই দালাল অফিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ও ফাইলপত্র ঘাটাঘাটি করছেন।

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়

স্থানীয় ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, “এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না।” হোল্ডিং খোলা, জমির তথ্য সংগ্রহ ও নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে দালালদের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।

অপর এক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমি কেনার আগে তার তথ্য যাচাই করতে অফিসে গেলে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম সরাসরি এক হাজার টাকা উপঢৌকন (ঘুষ) দাবি করেন। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন।

নামজারি বাণিজ্য ও বহিরাগত ‘উন্নয়ন কর্মী’

অনলাইনে নামজারির আবেদনের পর প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মূল দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। কিন্তু এই কাজটিকে বাণিজ্যে পরিণত করেছেন তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী। তিনি জাকির হোসেন নামের এক বহিরাগত দালালের মাধ্যমে নামজারি প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। জাকির হোসেন ভূমি অফিসের কোনো বৈধ কর্মচারী না হলেও তিনি প্রতিনিয়ত অফিসে উপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির নিজেকে “উন্নয়ন খাতে কর্মরত” বলে দাবি করে অফিসের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন।

কর্মকর্তার বক্তব্য

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের অনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি বলেন,

“আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।”

খাস জমি দখল ও অঢেল সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানে জানা যায়, তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ধোপাপাড়া মৌজার (জে.এল নম্বর ৩৯) আওতায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত মোট ৯টি দাগে (২৮০১, ২৮০২, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৮০৫, ২৮০৬, ২৮১০, ২৭২৭ ও ২৭৩০) প্রায় ২৫ বিঘা (৮.২৭ একর) সরকারি ধানী জমি রয়েছে। অথচ মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে শাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুর রহমানকে জমিগুলো একচ্ছত্র দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শাহিদুল বছরের পর বছর ধরে ওই খাস জমিতে পুকুর খনন করে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ভোগদখল করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সুফি এবরার আহমেদ বকসী রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, যা তিনি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও খাস জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান বলেন,

“এরকম কোনো অভিযোগ আমার কাছে নাই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট