
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার,পঞ্চগড় ||
মোবাইল অ্যাপ ‘ইমু’তে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর মোবাইল ফোনেই বিয়ে। সেই সম্পর্কের টানে কোনো প্রকার ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে স্বামীর কাছে যেতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নারী। এ সময় তার সাথে থাকা ৩ বছরের এক শিশুকন্যাকেও আটক করা হয়।
পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে পঞ্চগড় সদর থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে পঞ্চগড় সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫১-এর ভারতের অভ্যন্তরে সিপাহীপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিএসএফ।
আটক বৃষ্টি খাতুন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার কহিনুর মুন্সির মেয়ে। তার সঙ্গে থাকা তিন বছরের শিশু আয়েশা খাতুন তার কন্যাসন্তান।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী-৫৬ বিজিবির অমরখানা ইউনিয়নের মাধুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছিলেন ওই নারী। পঞ্চগড় সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫১-এর আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সিপাহীপাড়া এলাকা থেকে শুক্রবার ভোরে বৃষ্টি ও তার শিশুকন্যাকে আটক করে বিএসএফের ৯৩ চানাকিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল।
পরে বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করলে শুক্রবার রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইমু অ্যাপের মাধ্যমে ভারতের মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মাইদুল শেখ নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় বৃষ্টি খাতুনের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে মোবাইল ফোনেই তারা বিয়ে করেন। স্বামীর কাছে পৌঁছাতে এক দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান ওই নারী।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবির পক্ষ থেকে হস্তান্তরের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (২৩ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”