
আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সেগুনবাগান এলাকায় সাদিকুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে মধুপুর পৌর শহরের সেগুনবাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিকুল ইসলাম মধুপুরের বিল্লাল ড্রাইভারের ছেলে। তার পরিবার সেগুনবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে প্রতিদিনের মতোই সাদিকুল নাস্তা শেষ করে তার রুমে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে সাদিকুল তার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
সাদিকুলদের বাসার পাশেই যাতায়াতের সাধারণ রাস্তা। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন পথচারী হঠাৎ জানালা দিয়ে তাকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং চিৎকার করে পরিবারের লোকজনকে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় বিকল্প বুদ্ধি হিসেবে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে একটি বাঁশের মাথায় দা বেঁধে ঝুলন্ত ওড়নাটি কেটে দেন। এরপর আশপাশের মানুষ ও স্বজনরা দরজার লক ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে নিচে নামান।
খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন অফিসার লাভলু তরফদার তার দলবল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা মিলে সাদিকুলকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন অফিসার লাভলু তরফদার জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং আহত অবস্থায় সাদিকুলকে উদ্ধার করে আমাদের গাড়িতে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম ফজলুল হক আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমি ঘটনার খবর পেয়েছি। বর্তমানে নিহতের লাশটি হাসপাতালে রয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”