
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি: গত কয়েকদিনের টানা অতি ভারী বর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের গড়পাড়া ও মাদারপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি গড়পাড়া গ্রামে মৃগী নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার এবং মাদারপুর গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ তুলে দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মৃগী নদীর ভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগসহকারে শোনেন। নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক।
ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনীষা আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামের নদীপাড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিন নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি। নদীর তীব্র স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গড়পাড়া গ্রামের ১০ থেকে ১৫টি পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, দোকানপাট, অসংখ্য গাছপালা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ফলে ঘরবাড়ি ও পূর্বপুরুষের ভিটা হারানোর আতঙ্কে বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।