
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টায় আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা আবু কাওসার মাখন।
সাক্ষাৎকালে রাজশাহী মহানগরের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং নগরীর বিভিন্ন জনসংশ্লিষ্ট সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এ সময় আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, “আমি রাজশাহীতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপির অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
মতবিনিময়কালে সাংবাদিক নেতা আবু কাওসার মাখন নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো কমিশনারের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেটের নানা অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, অন্য জেলা থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগী নামিয়ে ফেরার সময় স্থানীয় কিছু মাইক্রোবাস চালক, লাশবাহী গাড়ির সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাধা এবং অর্থ দাবির মুখে পড়ে। অনেক সময় ২ হাজার টাকার ভাড়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের অভিযানের সময় মাদক কারবারিরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরে আবার একই স্থানে ফিরে আসে। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়া অনেক মাদক ব্যবসায়ীও জামিনে এসে অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবু কাওসার মাখন বলেন, সম্প্রতি নগরীর সি অ্যান্ড বি মোড় এলাকায় একই রুটে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের প্রতিটি দলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য রয়েছে এবং তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে এসব বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাংবাদিক নেতার উত্থাপিত এসব অভিযোগের জবাবে আরএমপি পুলিশ কমিশনার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও মিডিয়া মুখপাত্র গাজী উর রহমান, আইন সমাজ পত্রিকার প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি, বরেন্দ্র সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং যমুনা প্রতিদিন-এর প্রতিনিধি আবু সালেহ মাহিন প্রমুখ।