
মাহফুজুর রহমান সাইমন শেরপুর।
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শেরপুরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২১ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা শহরের ব্যস্ততম খরমপুর মোড়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে শেরপুরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে শিশু হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে নিহত শিশু রামিসার শেরপুরে বসবাসরত চাচা শফিউদ্দিন মোল্লা উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার নিষ্পাপ ভাতিজিকে নির্মমভাবে হরণের বিচার চান এবং দোষীদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানান।
‘আজকের তারুণ্য’ সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রতনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাসুদ রানা, শ্রমিক দল নেতা শওকত হোসেন এবং কাজী মাসুমসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একটি স্বাধীন ও সভ্য দেশে দ্বিতীয় শ্রেণির নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীরা পার পেয়ে যায় বলেই দেশে বারবার নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে।” তারা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারায় সরকার প্রধান এবং পুলিশ প্রশাসন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা বলেন, শুধু দ্রুত গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরপিশাচদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
একই সাথে বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সকল হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শিশু হত্যার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং নিরাপদ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।