
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি: আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অসহায়, দুস্থ, বন্যাক্রান্ত ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ১২৬ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন ভিজিএফ (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড ফিডিং) চাল বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে উপজেলার মোট ১২ হাজার ৬৩০টি পরিবার ১০ কেজি করে বিনামূল্যে এই চাল পেয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে একযোগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে এই চাল উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নিচে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
ঝিনাইগাতী ইউনিয়ন: ২ হাজার ৬৭৬টি কার্ডের বিপরীতে ২৬.৭৬ মেট্রিক টন।
নলকুড়া ইউনিয়ন: ২ হাজার ৭২টি কার্ডের বিপরীতে ২০.৭২ মেট্রিক টন।
কাংশা ইউনিয়ন: ১ হাজার ৯২০টি কার্ডের বিপরীতে ১৯.২০ মেট্রিক টন।
মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন: ১ হাজার ৭৬৭টি কার্ডের বিপরীতে ১৭.৬৭ মেট্রিক টন।
ধানশাইল ইউনিয়ন: ১ হাজার ৬৯৮টি কার্ডের বিপরীতে ১৬.৯৮ মেট্রিক টন।
গৌরীপুর ইউনিয়ন: ১ হাজার ৩০২টি কার্ডের বিপরীতে ১৩.০২ মেট্রিক টন।
হাতীবান্দা ইউনিয়ন: ১ হাজার ১৯৫টি কার্ডের বিপরীতে ১১.৯৫ মেট্রিক টন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন স্বাক্ষরিত স্মারক অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নামে সরবরাহ আদেশ (ডি.ও) ইস্যুর জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পূর্বেই অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল। বুধবার প্রতিটি ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে অনুমোদিত তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়।
সরেজমিন পরিদর্শন: চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ করতে সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাজীবুল ইসলাম।
বিতরণকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। পবিত্র ঈদের আগে এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপজেলার দরিদ্র ও বন্যাক্রান্ত পরিবারগুলোর মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।