
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় কুরবানির পশু জবাই এবং পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে ছাড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করে পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রশাসন। কুরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় এবং জাতীয় সম্পদ হিসেবে এর সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় কুরবানির পশু জবাইয়ের আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি, চামড়া ছাড়ানোর সঠিক কৌশল, লবণ ব্যবহার করে চামড়া দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায় এবং চামড়ার আন্তর্জাতিক গুণগত মান বজায় রাখার বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় অসচেতনতাবশত যেন কোনো ধরনের ক্ষতি বা ফুটো না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী (কসাই), চামড়া ব্যবসায়ী, মৌসুমি ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব সীমা শারমিন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব ফাহমিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
জনাব মোহন মেনজি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পঞ্চগড় সদর।
ডাঃ মরিয়ম রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, পঞ্চগড় সদর।
ডাঃ মোহাম্মৎ আশা আনারকলি, ভেটেরিনারি সার্জন, পঞ্চগড় সদর।
ইমাম জয়নাল আবেদীন, ইমাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কুরবানির পশুর চামড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর সঠিক জ্ঞানের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। সঠিক নিয়মে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ করা গেলে চামড়ার অপচয় যেমন রোধ হবে, তেমনি এর বাজারমূল্যও অনেক বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কুরবানির পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ: কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে হাতে-কলমে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজকরা জানান, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক ও তদারকি কার্যক্রম কুরবানির আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।