1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাণীনগরে এক মঞ্চে সাতটি সরকারি অনুদান ও সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শোকজ ছাড়াই বহিষ্কারের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে বিএনপির দুই নেতার সংবাদ সম্মেলন পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা! পঞ্চগড়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি নাগরিক আটক বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগ দেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম, সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ বকশীগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের তল্লাশি দেখে পালাল চালক, ৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মোটরসাইকেল জব্দ! রামগতিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে পাওয়ার টিলার বিতরণ ও প্রশিক্ষণ বোদায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, পরিবেশ বেহাল; স্থানীয়দের ক্ষোভ বকশীগঞ্জে পানির ট্যাংকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ৪৭তম বিসিএসে বাজিমাত: স্বাস্থ্য ক্যাডারে দেশসেরা ২৩তম বাঘার রুমা সুলতানা

বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগ দেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম, সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগ দেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম, সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা | অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬

মূল আকর্ষণ (Highlights):

  • বিভাগীয় তদন্তের পর পঞ্চগড়ের বোদায় বদলি করা হয় এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনকে।

  • বদলির ৮ দিন পেরোলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নেননি ছাড়পত্র (রিলিজ)।

  • বদলি ঠেকাতে রাজনৈতিক লবিং ও ঊর্ধ্বতন মহলে তদবিরের অভিযোগ।

  • সাংবাদিক হেনস্থা, খাস জমি ও মূল্যবান গাছ রক্ষায় অবহেলাসহ রয়েছে একাধিক বিতর্ক।

  • আদেশ অমান্য করাকে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

গাইবান্ধা: বদলির আদেশ জারির আট দিন পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলোচিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যোগদান করেননি। বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তিনি এখনো ছাড়পত্র (রিলিজ) গ্রহণ করেননি৷ বরং বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে আরও কিছুদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি বাতিল বা স্থগিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমেও তদবির করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলি এবং ২৪ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি হলেও তিনি সাদুল্লাপুর ছাড়েননি। একের পর এক বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও উপজেলা জুড়ে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে; একই সঙ্গে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

সাংবাদিক হেনস্থার পর বদলির আদেশ

সর্বশেষ বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরকারের অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সময় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে বিভাগীয় তদন্তের প্রেক্ষাপটেই তাকে বোদায় বদলি করা হয়।

অফিসে অনুপস্থিতি ও অনাগ্রহ

অভিযোগ রয়েছে, বদলির এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তাকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বোদায় যোগ দিতে অনীহ এবং বদলি স্থগিতে এখনো সক্রিয় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনা ও বদলির আদেশের পর থেকে এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিন অনিয়মিতভাবে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে আসছেন। গত ২১ জুন বিভাগীয় তদন্তে উপস্থিত হওয়ার পরদিন ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কাজে অংশ নেন। এরপর কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার অল্প সময়ের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কর্মচারীরা জানান, “দুপুরের পর স্যার অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন। এর আগে দুপুর পর্যন্ত তিনি এসএসসি পরীক্ষার নলডাঙ্গা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা আমাদের জানা নেই।” কর্মস্থল ত্যাগ বা যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জোরালো

সাংবাদিক হেনস্থা এবং অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদলির আদেশ কার্যকর না করে তদবিরের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করায় প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, তার এ আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় তিনি এখনো রিলিজ নেননি। বদলি স্থগিত করে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন তিনি।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি কেন যোগদান করেননি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক হেনস্থা ও অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে।”

তদবিরের বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান

এদিকে, বদলির আদেশ অমান্য করার ঘটনাকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বদলির আদেশ অমান্য করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং তদবিরের আশ্রয় নেওয়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, গত ৪ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনে কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

পেছনের যত বিতর্ক ও ক্ষোভ

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মো. জসিম উদ্দিন সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনার পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজার সরকারি খাস জমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ, নামজারি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি খাস জমি ও মূল্যবান মেহগনি গাছ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে গত ২৬ জুন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি একটি প্রভাববলয় গড়ে তুলছেন, যা ভূমি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দ্রুত বদলি আদেশ কার্যকর করে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করানো না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

(উল্লেখ্য, জসিম উদ্দীনের বদলি ও ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট