1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে শেরপুরে ‘আজকের তারুণ্য’র মানববন্ধন বাঘায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য মাসব্যাপী ফ্রি সহায়তা কেন্দ্রের সফল সমাপ্তি ‘নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’: বগুড়ায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপন মধুপুরে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন বোনকে কেন্দ্র করে প্রেমের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব: শেরপুরে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করলো বন্ধু, গ্রেপ্তার ২ পাঁচবিবিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেরপুরে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন পঞ্চগড়ে কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মানবতার সেবায় অনন্য মাইলফলক: ৫০০তম রক্তদান ও রক্তযোগান সম্পন্ন করলো ‘আসঝি’ ঝিনাইগাতীতে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল পেল ১২ হাজার ৬৩০ পরিবার

গুমের রাজনীতি ও নীরব বিবেক: এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে
গুমের রাজনীতি ও নীরব বিবেক: এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি

মিজান খান, লন্ডন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে গুম ও নিখোঁজের সংস্কৃতি। সাম্প্রতিক সময়ে মীর আহমদ বিন কাসেমের (Mir Ahmad Bin Quasem) উত্থাপিত প্রশ্নগুলো নতুন করে এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তার বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত কোনো রাজনৈতিক ভাষ্য নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য মানুষের হাহাকার আর অমীমাংসিত প্রশ্নের প্রতিধ্বনি।

ট্র্যাজেডি যখন কেবলই পরিসংখ্যান

গত এক দশকে বেশ কিছু নিখোঁজের ঘটনা দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক অন্তর্ধান, আমান আজমিকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ—এমন আরও অসংখ্য নামহীন-পরিচয়হীন মানুষের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া আমাদের রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে যখন নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ হয়, আমরা অনেকেই তা শুধু একটি ‘সংখ্যা’ হিসেবে দেখি। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে জড়িয়ে আছে একটি বিধ্বস্ত পরিবার, এক অন্তহীন অপেক্ষা আর অনিশ্চিত যন্ত্রণার জীবন।

বিভাজিত সমাজ ও নীরব বিবেক

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো, এই অমানবিক ঘটনাগুলোর প্রতি সমাজের প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা। রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আমরা আজ ‘অন্যায়ের’ সংজ্ঞাও বদলে ফেলেছি।

  • কেউ রাজনৈতিক কারণে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন।

  • কেউ আবার নিজের দলের স্বার্থে চরম অন্যায়কেও উপেক্ষা করেন।

  • সবচেয়ে ভয়ংকর হলো—গুমের মতো মানবিক ট্র্যাজেডি নিয়ে এক শ্রেণির মানুষের উপহাস ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য।

যখন দেখি কেউ নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের কান্না নিয়ে উপহাস করছে, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের বিবেক কি তবে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে? আমাদের নৈতিকতা ও মানবিকতা কি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ?

মানবতার কোনো দল নেই

একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। গুম বা নিখোঁজের মতো ঘটনাকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির উর্ধ্বে উঠে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। আজ যিনি ভুক্তভোগী, তিনি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী হতে পারেন; কিন্তু তার প্রিয়জনের কান্না আর হাহাকার কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়—তা মানবতার।

পবিত্র কোরআনে এমন মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা সত্য দেখেও দেখে না এবং শুনেও শোনে না। অর্থাৎ তাদের বিবেক ও অনুভূতি অচল হয়ে পড়ে। অন্যায়ের প্রতি উদাসীন থাকা বা তা নিয়ে উপহাস করা একটি সমাজকে ভেতর থেকে পচিয়ে দেয়।

উপসংহার

গুমের শিকার মানুষগুলো কেবল রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়—তারা কারো বাবা, কারো সন্তান, কারো ভাই। সত্যকে অস্বীকার করে বা অন্যের যন্ত্রণাকে উপহাস করে কোনো জাতি টেকসই সম্মান অর্জন করতে পারে না। আমাদের উচিত মানবিক মূল্যবোধের এই গভীর সংকট থেকে বেরিয়ে আসা। গুমের রাজনীতি বন্ধ হোক এবং বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে সমাজ মুক্তি পাক—এটাই এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট