1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে পঞ্চগড়ে তীব্র বিতর্ক, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের পঞ্চগড়ে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্যের অপব্যবহার: রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ জামালপুরে আ.লীগ নেতার চেম্বারে পুলিশের হানা: অস্ত্র, ককটেল ও মদ জব্দ রাণীনগরে এক মঞ্চে সাতটি সরকারি অনুদান ও সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শোকজ ছাড়াই বহিষ্কারের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে বিএনপির দুই নেতার সংবাদ সম্মেলন পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা! পঞ্চগড়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি নাগরিক আটক বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগ দেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম, সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ বকশীগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের তল্লাশি দেখে পালাল চালক, ৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মোটরসাইকেল জব্দ! রামগতিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে পাওয়ার টিলার বিতরণ ও প্রশিক্ষণ

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে পঞ্চগড়ে তীব্র বিতর্ক, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে পঞ্চগড়ে তীব্র বিতর্ক, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়):

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ ও আবেদনের মাধ্যমেই এই নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৫ বনাম ২০২৬: সাইনবোর্ডে যা দেখা গেল

সরেজমিনে রাজমহল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যালয়টির আগের সাইনবোর্ডে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল “সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুল”। তবে বর্তমানে সেই নাম ঢাকা পড়ে গেছে এবং সেখানে নতুন সাইনবোর্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে “রাজমহল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়”

স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষোভ

এলাকাবাসীর দাবি, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া যদি এই পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আওতায় এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কতৃপক্ষের বক্তব্যে বড় অসঙ্গতি!

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। তবে নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত অফিশিয়াল আবেদনের কপি দেখতে চাইলে তিনি জানান, সেটি তার কাছে নেই, প্রধান শিক্ষকের কাছে রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি একপর্যায়ে দাবি করেন, বিদ্যালয়ের নাম আদতে পরিবর্তনই করা হয়নি, আগের নামই বহাল রয়েছে। কিন্তু সভাপতির এমন বক্তব্যের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে খোদ বিদ্যালয়েই, যেখানে নতুন নামের সাইনবোর্ড ঝুলছে। যা তার বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট অসঙ্গতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন জানান, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করেছি।”

‘কিছুই জানেন না’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

একটি রেজিস্ট্রিকৃত বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন হয়ে গেল অথচ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কিছুই জানে না! বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে:

  • সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) অনিল চন্দ্র বর্মন বলেন: “বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। এ বিষয়ে আপনারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

  • পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন: “এই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমার জানা নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া যেতে পারে।”

স্থানীয়দের চূড়ান্ত দাবি

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা অবিলম্বে এই নাম পরিবর্তনের বৈধতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট