
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
কমলনগর, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চরকালকিনি ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জের ‘মাঝেরচর’ এলাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে ঘাটে ঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের কাছ থেকে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের প্রান্তিক চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, হাড়ভাঙা খাটুনি করে উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, সয়াবিন ও মৌসুমি ফল তরমুজ নৌপথে বাজারজাত করতে গেলেই এই সিন্ডিকেটকে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়। কথিত ঘাট ইজারার নামে পন্যের ধরণ অনুযায়ী তারা বড় অংকের টাকা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে ঘাটে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না এবং মালামাল আটকে রাখা হয়।
চাঁদাবাজির পরিসংখ্যান: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটে ইব্রাহিম সুমনের সঙ্গে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ মেম্বার, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি অদুদ মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতি ইসমাইল হোসেন সবুজ এবং ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফারুক বাঘা। এই চক্রটি প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আদায় করছে।
বর্তমানে তরমুজ প্রতি ৩ টাকা; ধান, সয়াবিন ও মরিচের বস্তা প্রতি ৪০ টাকা; সিমেন্টের ব্যাগ প্রতি ১৫ টাকা এবং বালি পরিবহনের বালগেট প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মাসে এই চাঁদাবাজির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। অভিযোগ আছে, এই টাকার ভাগ ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতার পকেটেও যাচ্ছে।
কৃষকদের হাহাকার: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, “আমরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করি। ঘাটে এসে যদি এমন বড় অংকের চাঁদা দিতে হয়, তবে মূলধনই ওঠে না। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।”
অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে চরকালকিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমন তার নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ’র সাব-ইজারা নিয়ে ইসমাইল হোসেন সবুজ ও তার লোকজন টোল আদায় করছে।” তবে বিআইডব্লিউটিএ’র মূল ইজারাদার সাবেরুল ইসলাম জানান, তার কাছ থেকে জনৈক হুমায়ুন কবির সাব-ইজারা নিলেও স্থানীয় এই প্রভাবশালী চক্রটি কোনো ইজারা নীতি মানছে না এবং সাব-ইজারাদারকেও কোনো পাত্তা দিচ্ছে না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে অভিযুক্ত ৫ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, “ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন এই ‘চাঁদা সিন্ডিকেট’ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।