
আশিকুর গাজীপুর, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর আউচপাড়া রসুলবাগ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও নির্মাণ শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে তারা বকেয়া পাওনা পরিশোধ, নির্মাণসামগ্রী ফেরত এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বাচ্চু মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা সড়কে এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, ইসলামে শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হলেও ভবনের মালিক বাচ্চু মিয়া তাদের পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়া তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একজন শ্রমিকের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তারা এর সুষ্ঠু বিচার ও বকেয়া পাওনা আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নির্মাণ ঠিকাদার সালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি ভবনটির নিচতলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করলেও তার পাওনা বাবদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। বকেয়া টাকা চাইতে গেলে ভবনের মালিক তাকে মারধর করেন এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত তার মালামাল আটকে রাখেন। এ ঘটনায় তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ভবনের মালিক আত্মগোপনে বিদেশে চলে যান এবং সম্প্রতি তাকে ও শ্রমিকদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী ঠিকাদার নূর মোহাম্মদ (৪৬) জানান, তিনি “নূর এন্টারপ্রাইজ” নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় চার বছর আগে বাচ্চু মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে বাঁশ, শাটারিং খোলা, স্ল্যাব নামানো, ভ্যান ভাড়া, রড কাটার মেশিন ও হ্যান্ডেলসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ভাড়ায় সরবরাহ করেছিলেন। বর্তমানে বিবাদীদের কাছে তার এক লাখ ৮৮ হাজার ৫৯০ টাকা পাওনা রয়েছে এবং ভাড়ায় দেওয়া মালামালগুলোও এখনো ফেরত পাননি। এ বিষয়ে তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে প্রাথমিক সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তা পরে বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি। নূর মোহাম্মদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি তাকে চাঁদাবাজ ও ধান্দাবাজ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি পাওনা টাকা ও মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক কন্ট্রাক্টর বলেন, নূর মোহাম্মদের বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছিল এবং একটি সমাধানও হয়েছিল। তিনি সরাসরি ভবন নির্মাণ না করলেও শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন এবং তার কিছু পাওনা ও মালামাল পাওনা রয়েছে। একইভাবে ঠিকাদার সালাউদ্দিনেরও টাকা ও মালামাল বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি যেহেতু থানায় অভিযোগ আকারে আছে, তাই প্রশাসনের মাধ্যমে এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোরও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভবনের মালিকপক্ষ দেশের বাইরে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।