
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশি নির্যাতনে তাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১:৩০ মিনিটের সময় বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাঠেরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবক রেজাউল হাওলাদার (২২) উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের খাস মহেশপুর গ্রামের মোশারেফ হাওলাদারের পুত্র।
জানা গেছে, রেজাউলের স্ত্রী তুবা আক্তার ঝালকাঠি আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শনিবার দুপুরে কাঠেরপুল এলাকার একটি সেলুনে চুল কাটতে গেলে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা রানী পুলিশের একটি টিম নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে যান।
রেজাউলের মা শিল্পী বেগম ও বোন ডালিম বেগম অভিযোগ করেন:
গ্রেপ্তারের সময় রেজাউল ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চাইলে এসআই সবিতা ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বেধড়ক মারধর করে টেনেহিঁচড়ে অটো গাড়িতে তোলে।
থানায় নিয়ে পুনরায় নির্যাতন করা হয় এবং জানাজানির ভয়ে তাকে থানার পেছনের দরজা দিয়ে গোপনে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, এটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী তারা বানু জানান, রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তোলার সময় এসআই সবিতা তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাওয়ায় এ নির্যাতন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান:
“শনিবার বেলা ২:১৫ টার দিকে রেজাউলকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তার বুকে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ দাবি করেছে গ্রেপ্তারের সময় নখের আঁচড় লেগেছে।”
অভিযুক্ত এসআই সবিতা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাস্থলে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে থানায় বসে পুলিশ হেফাজতে অন্য কেউ নির্যাতন করলে তার দায় আমার নয়।”
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা জানান:
“আসামি গ্রেপ্তারের সময় নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই। যদি এসআই সবিতা এমন কিছু করে থাকেন, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহত রেজাউলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত বরিশাল আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।