
নিজস্ব প্রতিবেদক, অভয়নগর (যশোর) | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
যশোরের অভয়নগরে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, ব্ল্যাকমেইল এবং জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা মুসলিমা আক্তার উর্মি (২১) তার স্বামী মেহেদী হাসান ও সহযোগী রূপা আক্তারের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত ইয়াকুব আলী সরদারের কন্যা উর্মি জানান, খুলনার ফুলতলার যুগ্মীপাশা গ্রামের রূপা আক্তার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে অশ্লীল ভয়েস যোগ করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনকি আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়া বাসার মালিকের কাছেও এসব পাঠিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আরও জানান:
গত ১৮ এপ্রিল বিষয়টি নজরে আসার পর প্রতিবাদ করলে রূপা আক্তার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
টাকা না দিলে আপত্তিকর কনটেন্ট সরানো হবে না বলে সরাসরি ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
বিগত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন ফেক আইডির মাধ্যমে তার ওপর নজরদারি ও চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উর্মির দাবি, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তার স্বামী, অভয়নগরের নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকার সিরাজ শেখের ছেলে মেহদী হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, মেহেদী একজন পেশাদার প্রতারক এবং বহু বিবাহের নায়ক। পরিকল্পিতভাবে ডিভোর্সে বাধ্য করার জন্য স্বামী তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে এই চক্রান্ত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসানের একাধিক স্ত্রীর তথ্য তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছেন:
নওয়াপাড়া বস্তির রোজিনা
খুলনার মারিয়া
নড়াইলের আগদিয়া গ্রামের সুলতানা
দেয়াপাড়ার তানিয়া
খুলনার আরও এক অজ্ঞাত পরিচয় নারী
স্বামীর পাশাপাশি শাশুড়ি নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন উর্মি। তিনি দাবি করেন, তার শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শাশুড়ির মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, ইতিপূর্বে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও একাধিক বিয়ের অভিযোগ এনে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া মেহেদীর অন্য এক স্ত্রী সুলতানা পারভীনও নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন।
থানায় গিয়েও কার্যকর সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে উর্মি বলেন, “রাত ১টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেও কোনো ফল পাইনি। পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা ভিডিও সরাতে অস্বীকৃতি জানায়।”
তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান:
অভিযুক্ত মেহেদী ও রূপা আক্তারকে দ্রুত গ্রেপ্তার।
সামাজিক মাধ্যম থেকে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণ।
সাইবার অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা প্রদান।
থানার বক্তব্য: এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া মাত্রই আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।