1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার রাণীনগরে গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ, ভিডিও করায় গৃহবধূকে হেনস্তা শেরপুরে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ নিরসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা: ৩ দিন ধরে শূন্যরেখায় ১০ জনের মানবেতর জীবনযাপন, উত্তেজনা পঞ্চগড়ে সিজারের আগে খোলা স্বর্ণের চেইন ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, নার্সের দাবি ‘হারিয়ে গেছে’ মধুপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ডাকে কলম বিরতি পালিত পঞ্চগড়ে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু নান্দাইলে দুই গ্রামের মুখোমুখি অবস্থান: সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ওষুধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ‘ড্রেসার’

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ওষুধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও স্বেচ্ছাচারিতা

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

ওষুধ ও ভ্যাকসিন কালোবাজারির অভিযোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ওষুধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ডাক্তার নেই, ভরসা যখন ‘ড্রেসার’

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে। একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

জনবল সংকটের অজুহাত

দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট