
আলমগীর হোসেন সাগর, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল ভেবে বিষাক্ত মিথানল পান করার ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল রাজাকের ছেলে সজিব (২২) এবং একই উপজেলার মোস্তফা ইসলামের ছেলে রনি মিয়া (২০)। সজিব কোনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন এবং রনি স্থানীয় একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে কোনাবাড়ীর বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় রমজান নামের এক ব্যক্তির বিয়ের অনুষ্ঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ‘অ্যালকোহল’ হিসেবে একটি পানীয় পরিবেশন করেন রমজানের বেয়াই সাগর। এটি পান করার পরদিন থেকেই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের প্রথমে কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোরে সজিব এবং বিকেলে রনি মিয়ার মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষাক্ত মিথানল পানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রনি মিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, রনি কোনো ধরনের নেশা করতেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পানীয় পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার নানী। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, “নিহতদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাগর পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।